3 Aug 2018

মাস্তান

মাস্তান
******

সত্তর দশকের প্রেসিডেন্সি জেলের মহিলা ওয়ার্ডের সকাল আট কি নয় টা। সকালের খাবার এসেছে মটর সেদ্ধ। লাইন দিয়ে বন্দিনীরা খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত। তদারকিতে সবচেয়ে দাপুটে এক জবরদস্ত মহিলা ওয়ার্ডার বিজয়া,  আর সবচেয়ে  নৃশংস জেল কর্তৃপক্ষের এক বিশ্বস্ত দালাল শিখা তার বাকী চামচা বাহিনী সহ দাঁড়িয়ে মাতব্বরীতে ব্যস্ত। হটাৎ করেই একটা শোরগোল উঠল, আধ ভাঙা হিন্দী বাংলায় সতেজ গলায় শোনা যায়, " ইয়ে এক কীড়াওয়ালা ঘোড়ে কে খানে কি লিয়ে মুঠঠি ভর চানে মে ক্যায়া ভুক মিট জায়গি, কেইসে আদমী জিয়েগা !"
--
সঙ্গে বিজয়া আর শিখা চামচাবাহিনী সহ এগিয়ে আসে, "ক্যাড়া চিল্লায়, এত বুকের পাটা ? "হ্যামি মাস্তান আছি, হ্যাঁ, বুকের পাটা হ্যায় মেরে অন্দর, তুমলোগ কৌন হো !', শিখা আর চামচে বাহিনীর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে জবরদস্ত লম্বা চাওড়া খাটিয়ে পেটানো চেহারার এক পাঞ্জাবী মহিলা রুখে ওঠে। চারিদিকে বন্দিনীরা ভীড় করে এগিয়ে আসে। বেগতিক বুঝে বিজয়া তাড়াতাড়ি সামাল দেয়, " এই পুঁটি ঠিক করে খাবার বাট, ওকে আর দুটো মটর সেদ্ধ দে।" মাস্তান কোনদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে খাবার নিয়ে মেয়াদী নম্বরে ঢুকে যায়।
--
মেয়াদী নম্বরের গরাদের কাছে ছিল মাস্তানের জায়গা। সবুজ ছাপ ছাপ কাপড়ের ঢোলা পাজামা আর ঢোলা একটা জামা থাকত পরনে। মাথা ভর্তি ঝাঁকড়া ছোট ছোট চুল। গরাদের ফাঁক দিয়ে ওধারে বাকী ওয়ার্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক বন্দিনীদের সাথে তাঁর ধীরে ধীরে আলাপ জমে ওঠে। অন্যান্যদের মত সে তাদের দিদি বলে ডাকতো না, দোস্ত বলে সম্বোধন করত। তাঁর আসল নাম ছিল সফিয়া। দেশ ভাগের সময় তাঁদের পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আত্মীয় স্বজনদের অনেকে ভারতে চলে আসেন, অনেকেই আবার ওধারে থেকে যান। স্বাভাবিক সময়ে এপারের লোকজন ওপারে, ওপারের মানুষ এপারের আত্মীয়দের বাড়ী যাওয়া আসা চলত।
--
দু দেশের মধ্যে উত্তেজনার সময় সেটা কঠিন হয়ে পড়ত। অনেক সময় সাধারণ নিরীহ মানুষ সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়ত। চতুর আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্নরা  কখন কখন ঘুষ দিয়ে  ছাড়া পেয়ে যেত। কিন্তু  সাধাসিধা গরীব মানুষরা অনেক সময়ই  নিরাপত্তা রক্ষীদের হাত থেকে কোন দেশের সরকারি থানা বা জেলে ধরা পড়ত, যথারীতি ছল চাতুরী না করে সত্যি কথা কবুল করে ফেঁসে যেতে। অনেকের  বাড়ীর লোকজন আর তাঁদের কোন হদিশই পেত না।
--
এই বিপদ এড়াতে ঘুর পথে সীমানা পার হতে গিয়ে পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত গ্রামের সহায় সম্বল হীন  সফিয়া বাড়ী  ফেরার রাস্তা  হারিয়ে ক্রমাগত ভবঘুরের জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়। বিভিন্ন শহর জায়গায় ঘুরতে থাকে, বাড়ীর পথ খুঁজে বেড়ায়। তাঁর আত্মসম্মান বোধ বড় প্রখর। কখন কারও কাছে হাত পাতেনি, আবার নিজের যখন যা কাজ জুটেছে করেছে পেট ভরাতে আর পথখরচ জোগাড় করার জন্য। ঘুরতে ঘুরতে কিভাবে যে পশ্চিমবাংলায় এসে পড়ে, নিজেও বলতে পারত না। ক্রমে কলকাতার ফুটপাত তাঁর বাসস্থান হয়ে দাঁড়ায়।
--
অনেক সময়ই  কোন স্টেশন বা ফুটপাতের দোকানীদের কাছে ছুটকো ছাটকা কাজ করে পেট চালাত আর তাঁদের থেকে এক প্লাস্টিক জোগাড় করে তাঁবু খাঁটিয়ে রাত কাটাত। আর কি ভাবেই যে সফিয়া শুধুই মাস্তান নামে পরিচিত হল, বলা কঠিন, সম্ভবতঃ কেউ তাঁর নির্ভিক স্বভাবের জন্য এই নামকরণ করেছিল আর মাস্তান সানন্দে মেনেও নিয়েছিল।
--
আবার একদিন পুলিশবাহিনী স্টেশন আর ফুটপাতের অধিবাসীদের উচ্ছেদ করার প্রয়াসে অনেকের সাথে মাস্তানকেও থানায় ধরে নিয়ে যায়। তাঁর সুদূর পাঞ্জাব থেকে কলকাতা পাড়ি দেওয়া বা স্টেশনে স্টেশনে ঘুরে ঘুরে থাকার কথাবার্তা  শুনে তাঁকে  সন্দেহজনক দৃষ্টিতে দেখে ও কড়া সওয়াল চালিয়ে যায়। মাস্তান ভয় পাওয়ার পাত্রী নয়, চ্যাটাং চ্যাটাং উত্তর দেয়। পুলিশ সহজ পন্থা  অবলম্বন করে। তাঁকে বিদেশী চর বলে চিহ্নিত করে, আর পাসপোর্ট কেস দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। জেলে এসেও মাস্তান কিন্তু এতটুকু  সাহস হারায়নি।
--
দালাল, ওয়ার্ডার, মেট্রন কাউকে তোয়াক্কা করত না, ন্যায্য কথা মুখের ওপর বলে দিত। খাবার কম দিলে প্রতিবাদ করত, অসুখ করলে সোজা হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের কাছে ওষুধ চাইত। দিনের পর দিন পার হয়ে যায়, কিন্তু তাঁর কোর্টের ডেট কেন আসে না, তাই নিয়ে মেট্রনদের কাছে কৈফিয়ত চাইত। দরকার হলেই তখনকার সৎ, বিবেকসম্পন্ন ও সহৃদয় ওয়েলফেয়ার অফিসারের কাছে তাঁর সমস্যা জানাত। তাঁর নির্ভিক চালচলনে দালাল বাহিনী সচরাচর ঘাটাতে সাহস করত না বটে, তলে তলে তাঁর বিপদ ঘনিয়ে আসছিল।
--
ওয়েলফেয়ার অফিসার সব বন্দিনীদের দাবী ও অভিযোগের সাথে মাস্তানের সমস্যা নিয়েও মেট্রন, জেলার সুপারের সাথে রীতিমত আইসঙ্গত ভাবে কি প্রয়োজন সে প্রসঙ্গে  সরল বিশ্বাসে প্রায়শঃই আলাপ  আলোচনা করতেন, যার ফলে  জেলের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত  মেট্রন, জেলার সুপার কে বিপাকে পড়তে হত।
--
জেলে সপ্তাহে একটা দিন জেলার, সুপার, বড় জমাদার (মেল হেডওয়ার্ডার ), বড় মেট্রন ইত্যাদির একটা দল সব ওয়ার্ড ঘুরে, বন্দি / বন্দিনীদের সুবিধা -অসুবিধা খোঁজ নেওয়ার জন্য বরাদ্দ থাকত, যেটা বস্তুত নিছক একটা লোক দেখান ব্যাপার ছিল। এই পরিদর্শনের সময় সব বন্দিনীদের লাইন করে, যাকে জেলের ভাষায় ফাইল বলা হত, চুপচাপ বসে থাকাটাই রেওয়াজ ছিল।
--
এইরকম  এক পরিদর্শনের সময় মাস্তান ফাইল ছেড়ে উঠে সোজা জেলার সুপারের দিকে এগিয়ে গেল। ওয়ার্ডার, মেট্রনরা আটকাবার চেষ্টা করে পারল না।মাস্তান সবাইকে ঠেলেঠুলে সোজা জেলার সুপারের একেবারে কাছে গিয়ে জোর গলায় প্রশ্ন করল, " কিতনা  দিন সে তুমলোগোনে ইয়ে জাহান্নমে জানোয়ার কি তরা বন্ধ করকে রাক্ষা, মেরেকো কোর্ট মে কিউ পেশ নেহি কর্তে হো ! ম্যায় তো জানু, মেরে কসুর ক্যায়া ?"
--
কর্তাব্যক্তিরা বিরক্ত মুখে, ভুরু কুঁচকে বড় মেট্রনের দিকে তাকাল। মেট্রন তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে হাত কচলাতে কচলাতে বলল, " হে, হে, স্যার, কিছু মনে করবেন না। ওর কথায় কান দেবেন না, মাথাটা একটু খারাপ আছে কিনা।" ঘৃণাভরে মেট্রোনদের দিকে তাকিয়ে গর্জে ওঠে, "চোপ ঝুটা, ঝুট বোলনেসে তুম থাক নেহি যাতে! হরবখত ঝুট কে সাহারে জিতে হো !" মাস্তানের প্রবল হুঙ্কারে সবাই থতমত খেয়ে যায়।   
--
তড়িঘড়ি সন্মান বাঁচাতে মেট্রন সহ সব কর্তা ব্যক্তিরা, অন্য ওয়ার্ডের দিকে পা বাড়ায়। সেদিন বিকালে সব ওয়ার্ড বন্ধ করে দিয়ে, মেট্রন তার প্রতিশোধ নিল। বিশাল দালাল বাহিনী ও দুই শিফটের উপস্থিত সব ওয়ার্ডারদের সঙ্গে নিয়ে, মাস্তানের ওপর চড়াও হল।
--
অকথ্য গালাগাল বর্ষণ করতে করতে বড় মেট্রনের তত্ত্বাবধানে হিংস্র দালাল আর বিবেকহীন ওয়ার্ডার রা একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ল মাস্তানের ওপর।  সকলে মিলে  লোহার রড, পাকানো বাঁশের ডাণ্ডা, কয়লা ভাঙা হাতুড়ি দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করতে করতে, টেনে হিঁচড়ে ওয়ার্ড থেকে বার করে নিয়ে গেল। একা খালি হাতে এতগুলো সশস্ত্র  মানুষের সাথে পেরে ওঠা অসম্ভব জেনেও নির্ভিক মাস্তান আপ্রাণ কঠোর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যায়।
--
শয়তানদের দল রক্তে ভেসে যাওয়ার পরও তাঁকে পাগল বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে অকথ্য অত্যাচার চালায়। দালাল শিখা একটা রড ঢুকিয়ে দেয় তাঁর গোপনাঙ্গে। শেষ পর্যন্ত রক্তার্ত মাস্তানের অচৈতন্য উলঙ্গ শরীরটাকে হাতে পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে মারাত্মক ভাবে উন্মাদ বন্দিনীদের সাথে রেখে দেয়। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য সে ভেঙে পড়েনি, বা কারোর কাছে করুনা ভিক্ষা করেনি। দালাল, এমনকি মেট্রোনদের থেকে  ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
--
দিনের পর দিন অনাহারে, অত্যাচারে কঙ্কালসার মাস্তান আস্তে আস্তে সকলের অগোচরে কবে যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, কেউ জানতেও পারলো না। তবে তাঁর নির্ভিক, আপোষহীন, প্রতিবাদী মুর্তি বন্দিনীদের মনে গভীর ছাপ ফেলে গেল। প্রায়  চল্লিশ বছর পরেও অতি সাধারণ এক ভবঘুরে মহিলার সেই বীরাঙ্গনা মুর্তি আজও স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।   
 ---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------






        

7 Jul 2018

মেয়ের ছাতা

মেয়ের ছাতা
*********

সেই ছোট্টবেলা থেকে শুনেছি, 'ভারি তো মেয়ের ছাতা!' প্রয়োজন কি এত চিন্তার, পড়ছে পড়ুক নিজের মত। তবে বিজ্ঞান পড়ার দরকার নেই, মিছামিছি কেন বাড়তি ব্যয় ! নেহাত অসুবিধা না হলে কলা বিভাগে দুটো একটা পাশ যদি করে তো কারুক, বিয়ের বাজারে দরে সুবিধা হবে !
--
সাঁতার শেখানো নিষ্প্রয়োজন, জলে ডুববে মরবে না, মেয়ের ছাতার মরণ নেই ! শুধু শুধু গানবাজনা শেখার কি প্রয়োজন, রান্নাঘরে হাঁড়ি ঠ্যালাই তো ভবিষ্যৎ, বরং মা ঠাকুমার হাতে হাতে কাজ করুক। শিখে যাবে রান্নাবান্না আর বাকি সব কাজ, শ্বশুর  বাড়ীতে কথা শুনতে হবেনা !
--
মাঠে ঘাটে দৌড়ঝাঁপ করে কাজ নেই , বারকুটে মন হয়ে যাবে, ম্যাও ধরবে কে ! দুদিন বই তো নয়, ছেলে মানুষ করতে হবে যে!  দুচারটে রান্নাবাটি আর পুতুল বরং কিনে দাও, ভবিষ্যতেকি করতে হবে বুঝে যাবে ছোটবেলাতেই ! খামোখা অন্য কোন স্বপ্নের জাল বুনবে না।
--
ছেলেরাই তো আসল বংশের প্রদীপ। তাই সকল সুবিধা তাদের ভাগ্যে বরাদ্দ। তাদের যে বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিছু একটা হতে হবে। ঘটিবাটি বিকিয়ে গেলেও তাদের জন্যে সব সুযোগ অবশ্যই দেওয়া চাই। তাদের মঙ্গলের খাতিরে অন্নপ্রাশন,ভাইফোঁটা, রাখী বন্ধন, পৈতে, জামাইষষ্ঠী করতেই হবে। তারা যে বংশে বাতি দেবে। বেঁচে থাকতে বাবা মা কে দেখুক না দেখুক মরলে শ্রাদ্ধের অধিকার তো ছেলেদের। বংশ রক্ষার কৃতিত্ব নাকি পুরুষদের। সমাজে রাজ তাই করবে পুরুষ।
--
তাই অভিভাকের অধীনে মেয়েদের সারা জীবন কাটাটাই স্বাভাবিক। প্রথমে বাবা বা ভাই স্থানীয় কেউ, পরে স্বামী বা ছেলে। না হলেই অনর্থ। বিয়েতে পাত্রীপক্ষের কাছে পণ দাবী করা তো রেওয়াজ! সেই সাথে শ্বশুরবাড়িতে নিত্য বধূ হত্যা চলেছে অক্লেশে! কেউ কেউ আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে মেয়েজাতিকে বারোয়ারী সম্পত্তি মনে করে, তাই সুযোগ পেলেই  শ্লীলতা হানি ধর্ষণ, এমন কি হত্যা ও!
--
শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ বাদ যায় না! অজুহাত তো আছে - চলন বলন বা পোশাক আশাক ঠিক  নেই , রাত বিরেতে বার হয়, হোটেল রেস্তোয়ায় যায়। নয়তো বিবাহিত এঁয়োতির চিন্হ নেই, বৈধব্যের কোন লক্ষণ নেই ইত্যাদি, ইত্যাদি কত কিছু। ছোট ছেলেরা এমনকি বয়স্ক পুরুষ মানুষ তো আকর্ষিত হতেই পারে! তাদের দোষ কোথায় ! সব দোষ মেয়েদের, এমনকি তিন মাসের শিশুরও। সভ্য মানুষের সমাজে ঘটেই চলেছে !    
--
এত সত্ত্বেও আজ এই 'মেয়ের ছাতার' দল স্বপ্ন দেখে। মনে তাদের কল্পনার জোনাক জ্বলে। তাইতো আজ তারা স্থলে, জলে, অন্তরীক্ষে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মেয়েরা হল আকাশের জোৎস্না ভেজা তারকারাজি, অতল সমুদ্রের ঝিনুকের মুক্তা, পায়ের তলার শক্ত মৃত্তিকা। সৃষ্টির ধারক, বাহক, ও আলোকবর্তিকা।
--
পৃথিবীতে জন্ম নিক উল্কা পিন্ডের মত অগণিত কন্যা সন্তান। সনাতন বস্তাপচা সমস্ত মিথ কে জ্বালিয়ে দিয়ে নিজেদের মর্যাদা ছিনিয়ে নিক। পুরুষ তান্ত্রিক সমাজের পাঁজর ভাঙতে ভাঙতে তারা এগিয়ে যাক। অচিরে রচনা করুক মুক্তির এক  মহাকাব্য। সব ক্লেদ মুছে দিয়ে অগণিত চন্দ্রমল্লিকার সুন্দর বাগান রচনা করুক মাটির এই পৃথিবীতে।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------




14 Apr 2018

আসিফাদের জন্য

আসিফাদের জন্য
************
আকাশের মুখ আজ বড়ই কঠোর
চাঁদ, তারারা লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে
কালো ঘন মেঘের আস্তরণে !
গাছেদের পাতায় পাতায় হাহাকার,
বাতাসে প্রতিবাদের আলোড়ন !
নদীরা ছুটে চলেছে সাগর অভিমুখ
এক কঠিন কঠোর বার্তা নিয়ে,
অশান্ত ঢেউরা ফুঁসে উঠছে রাগে !
 --
বসুন্ধরা আজ বিচার চাইছে,
তাঁর হাজার হাজার আসিফার জন্য,
তাঁর হাজারও ফুলের কলির জন্য,  
নতুন বছরে সূর্য কি মাথা তুলতে পারবে !
আসিফরা আজ দুহাত পেতেছে বিচারের আশায়,
একটা, অন্তত একটা মানব বন্ধন হোক সারা  দেশজুড়ে
কৃমিকীট রা বুঝুক শুধু ধর্ষক নয়
 মানুষ ও আছে এ সমাজে !
------------------------------

26 Mar 2018

মৃত্যু

মৃত্যু
****

মৃত্যু বড়ো শূন্যতা সৃষ্টি করে!
ঠেলে দেয় একটা ভীষণ রকম অসহায়তার মুখে,
মৃত্যু ঝাপটা মারে বারে বারে
ছিনিয়ে নিয়ে যায় আমার প্রিয় স্বজনদের,
কেড়ে নেয় ততোধিক প্রিয় সাথীদের,
মৃত্যু রিক্ততার জন্ম দেয় !
---
অসার করে দেয় সমস্ত যুক্তি,
আমাকে ভীষণ ভাবে নিঃসঙ্গ করে দিতে চায়!
একটা হাহাকার তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় রাত্রিদিন,
প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় মন নিঃশব্দে ডুকরে কাঁদে,
যেন যন্ত্রনায় নীল হয়ে যায় সব বোধবুদ্ধি!
মৃত্যু ছোবল মারে আমার অস্তিত্বকে!
---
গভীর জোৎস্না ভেজা রাতে আকাশ ভরা তারাদের মাঝে
খুঁজে বেড়াই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলিকে।
আর যেন বইতে পারিনা বেদনাবিধুর চেতনাকে!
পরক্ষনে মনে মনে চিৎকার করে বলি,
খামোশ মৃত্যু, তোর হাতে এত শক্তি নেই যে
কেড়ে নিবি আমার সুখেদুখে ভরা স্মৃতির ঝোলাখানি!
---
বৃষ্টিভেজা বাতাসে, পাখীর কুজনে, সংগীতের মুর্চ্ছনায়
তারা সবাই আমার সঙ্গে থাকে,
অনুভবে খুঁজে পাই 
কাক ভোরে সূর্যের নরম আলোতে।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------



17 Feb 2018

অনুশোচনা

অনুশোচনা
*********

জানি, অনুশোচনার কথা শুনলে মুখ গম্ভীর করে বকে দিবি,তাই মনে মনে শুধু পুরান স্মৃতি ঝালিয়ে চলেছি অবিরত মনে পড়ে হটাৎ কেমন একদিন আমাদের বাড়ী এসে নির্দ্বিধায়  হুকুম করেছিলি খেয়ে নিয়ে আমরা দুজন আমার বাড়ী  যাব।
--
লক্ষী মেয়ের মত কোন রা কারিনি, তোর সাথে শান্তিপুর লোকালে সটান তোর বাড়ী গিয়ে উঠলাম। রাত ভর কত জমে থাকা কথা। ভোর হতেই নদী দেখাতে নিয়ে গেছিলি, সে বছরে ভীষণ বন্যাবিদ্ধস্ত ক্ষতগুলি দেখিয়েছিলি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। মেঠো পথ হেঁটে গ্রামগঞ্জ ঘুরে ফিরলাম।
--
মনে পড়ে অতি সযোতনে রাখাএকটা চায়ের কাপ বার করে চা ঢেলে আমায় দিলি, তখন তোর মমতা মাখা চোখ দুটোতে কেমন যেন একটা দ্যুতি দেখেছিলাম,ওটা যে তোর শহীদ স্বামীর কাপ ছিল।তোর হাতের সেই বেগুন দিয়ে মেথিশাক আর চুনোমাছের ঝালের স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছেরে। তোদের গ্রূপের গান শুনলাম, আত্মীয় বন্ধুদের বাড়ী গেলাম দিন চার পাঁচ কাটিয়ে কলকাতার ট্রেনে তুলে দিলি।
--
এভাবে কখনও তুই এসে থাকতিস আমাদের বাড়ী কখনও বা আমাকে নিয়ে যেতিস শান্তিপুর, একই ভাবে দিন কাটতো, মনের এত কথা জমে থাকত, শেষই হতো না। আর কোনদিন তোর ওই বিশেষ কাপটায় চা দিতে কখন ভুল হতোনা, ওটা নাকি তোর বিশেষ মানুষদের জন্য তোলা থাকত।  প্রতিবার ই ফেরার সময় দুজনের মনখারাপ লুকাতে নানা মজার গল্প বলতিস, দুজনে খুব হাসতাম।
--
ক্রমে আমরা প্রত্যেকেই নিজেরা নিজেদের পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কালে ভদ্রে দেখা হত। চিঠিরপত্রের আদানপ্রদানও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে এলো। আমি আমার ছেলে আর সংসারে ব্যস্ত, তুই  ব্যস্ত তোর নতুন সংসারে। তারই মাঝে যে যার মত করে নানা রকম সামাজিক কাজের ভার।   
--
বহু দিন বাদে মোবাইল ফোনের দৌলতে নতুন করে যোগাযোগ। ঠিক আগের মতই আন্তরিকতা আর গল্প।  সময়ের হিসাব থাকতো না, কথা যেন শেষই হতো না। আর প্রতিবার তোর মন তোলপার করা ডাক," একবার আয় না আমার কাছে, তোকে যে আমার অনেক কিছু বলার আছে। " যাবো যাবো করেও যেয়ে উঠতে পারিনি।
--
হটাৎ করেই সবাইকে ছেড়ে চলে গেলি। আজও অহরহ কানে বাজে তোর সেই আকুল আহ্বান। খুব অসহায় লাগে, নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা। কত অভিমান নিয়ে যে চলে গেলি ! জানিস তোর সেই নির্মল হাসি যেন এখনও শুনতে পাই, শুনতে পাই তোর গান। তোর লেখা নাটক গান, গল্প মনে পড়ে। মাঝে মাঝে নাটকের মহড়ায় তোর নির্দ্দেশ, শাসন সবকিছুই মনে পড়ে। খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করেরে তোকে!
--
এখন চারদিকের ঘটনাগুলিকে আর সহ্য করা যাচ্ছে নারে। এর থেকে যেন অনেক ভাল ছিল আমাদের সেই পুরনো যাপন, যখন আমরা সবাই ছিলাম সবাইয়ের জন্য। ভীষণ, ভীষণ ভাবে ফিরে পেতে ইচ্ছে করে সেই দিনগুলিকে।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
   







15 Feb 2018

সুজন ভাই


বন্ধু ও ভাই, কবি সুরাজ চৌধুরী স্মরণে 
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

সুজন ভাই 
**************

সীমানার ওধারে ছিলে তুমি, এধারে আমি। চাক্ষুস দেখা তো হয়নি কোনদিন, পরিচয় ছিল ছবিতে আর চিন্তায়, ছন্দে, ব্যাঞ্জনায় আর শব্দচয়নে। 
--
সুজন ভাই আমার, তোমার 
কথামালার যাদুতে ছিলাম মুগ্ধ, ছন্দে দুলতো  হৃদয়, ভাবের গভীরতা, বাস্তবতার ছোঁয়া আঘাত করত একদম চেতনার দরোজায়, মনে জাগাত আশা, চোখে পরিয়ে দিত 
উজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের কাজল, 
তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে ধ্বনিত হত পালা
বদলের গান। 
--
নতুন এক দিনের স্বপ্ন ই হয়ত 
বন্ধুত্বের বাঁধনে বেঁধেছিল আমাদের।আশা ছিল যখন পূব আকাশ লাল করে আসবে সেই শুভ মুহূর্ত, দেখা হবে অগণিত বন্ধুদের  ভীড়ে।
-- 

ভোরের শিশির সবুজ করে তুলত আমাদের চেতনার ভাঁড়ার,  দিগন্ত থেকে বাতাস বয়ে আনতো
রোজনামচার ওঠাপড়ার গল্প, বাঁশ বাগানের মাথার ওপরে পূর্ণিমার আলোর ছটা ভিজিয়ে দিত দুজনের স্বপ্ন। 
--
সীমানার দুধারে ছিলাম দুজনে, দূরত্ব বেঁড়া তুলতে পারেনি বন্ধুত্বের মাঝে,  
অপেক্ষায় থাকতাম তোমার লেখা পড়ার জন্য, অপেক্ষায় থাকতাম আমার সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, অনুভূতির খুঁদকুড়ো তে তোমার মতামতের জন্য। 
--
সুজন বন্ধু আমার, এই সামান্য 
যোগটুকুও ছিন্ন করে কোন অনন্তের পথে হারিয়ে গেলে! অসীম ব্রহ্মাণ্ডে 
নতুন কোনখানে আমাদের স্বপ্নের জগৎ কি খুঁজে পেলে কবি!
--
সুজন সুরাজ ভাই আমার, এই পৃথিবীর সীমার মাঝেই অসীম হয়ে আছো, বেঁচে আছো বহু মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে।   
--------------------------------------------------------------------------------- ---------------------------------------------------------------------------------------











25 Jan 2018

আমাদের বউমা

আমাদের বউমা
***********

"আমরা এগিয়ে চলি জীবনেরই প্রান্তে, আঁধারের বোঁটা থেকে আলো ছিঁড়ে আনতে। "
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

গতকাল ২৪ শে জানুয়ারি চলে গেল আমাদের জেল জীবনের আর এক সাথী, অতি ভালোবাসার বউমা। শান্তিপুর নিবাসী জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য (ডাক নাম রুবি) কে আমরা সবাই বউমা বলে ডাকতাম। ডাক টা শুরু করেছিল জয়া (কৃষ্ণা ব্যানার্জ্জী)। বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিল, অবশেষে সেরিব্রাল স্ট্রোকে ১৩ দিন হাসপাতালে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ফেলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
--
অসাধারণ সব গুনের অধিকারী ছিল বউমা। ছোটবেলা থেকেই আই.পি.টি.আই. এর সাংস্কৃতিক কাজের - গান, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিল। বি.এ পাশের পর একটি সরকারি স্কুলে চাকরী পায়। মা, দুই বোন, এক ভাই কে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব বহন করে। ভাই উপযুক্ত হয়ে চাকরি পাওয়া পর্য্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেছে।
--
আজীবন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কাজে নিমগ্ন শহীদ কমরেড শ্রী অজয় ভট্টাচার্য্য কে বিয়ে করেছিল।  স্কুলে কাজ করার সাথে সাথে এই সমস্ত কাজে বউমাও খুবই সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিল। অজয়দাদের চার জন কে  পুলিশ যখন গুলি করে মারে, সে তখন পার্টির আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মী হিসাবে অনেক দূরে কাজ করছিল। খবরের কাগজের মাধ্যমে প্রথম খবরটা জানতে পারে। এই দুঃসহ আঘাত তাকে ভাঙতে পারেনি বরং বিপ্লবের কাজে আরও দৃঢ় করে তোলে।    
--
সাধারণ মানুষের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জয়শ্রী ভট্টাচার্যের চরিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। জেলের ভেতরে ও বাইরে তাঁর লেখা অজস্র প্রবন্ধ,গল্প ও নাটকগুলিতে মেহনতী মানুষের জীবন সংগ্রাম ছিল মূল বিষয়। তাঁর লেখা অনেক নাটক তাঁরই পরিচালনায় জেলে আমরা কখনও সাধারণ বন্দিনীদের সামনে কখনও বা নিজেদের মধ্যে অভিনয় করতাম।
--
একবার বউমা একটা নাটকে শ্রী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা রাজা ও টুনটুনি পাখীর গল্পটার আধারে শ্রমিক কৃষক বিদ্রোহের একটা নাটক লিখেছিল, সেখানে এক বোষ্টমের গলায় গানের মধ্যে দিয়ে রাজার দুরাচারের কথা বলা হয়েছিল। পরে 'হীরকরাজার দেশে' সিনেমা টা দেখে বউমার সৃজনশীলতা সম্পর্কে শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়।  
 --
খুব সুন্দর গানের গলা ছিল। নাটকের জন্য গান লেখা, তাতে সুর দেওয়া সবই ছিল তাঁর অনায়াসলভ্য। আমাদের আই.পি.টি.আই এর কত গান শিখিয়েছিল। অসুখে সেবা করা, নিজের হাতে রান্না আদর করে খাওয়ান সব কিছুতে একান্ত আপনজনের মত ছিল আমাদের বউমা।   
--
জয়শ্রী  জেলে আসে ৭৪ সাল নাগাদ। বেশীর ভাগ সময় প্রেসিডেন্সী জেলে, এবং কিছুদিন কৃষ্ণনগর জেলে ছিল। আমরা একমাত্র মাসিমা (শান্তি রানী দেব), আর অর্চনাদি ছাড়া সবাই কে সবাই তুই তোকারি করতাম, সে ১০/১৫ বছর বড় হলেও, জেলে এটাই স্বাভাবিক চল ছিল। এইজন্যে মাঝে মধ্যে বউমা, (কল্পনা, মলায়া, লতিকা ইত্যাদিরা) রাগের ভান করত, আমরা পাত্তা দিতাম না। কিন্তু কোন বিশেষ কারণে বউমা সাত্যি যখন কাউকে বকতো, তখন সে গাম্ভীর্য্য কে উপেক্ষা করার সাহস কারো হতো না।
 --
জেল থেকে বার হবার পর স্কুলের চাকরী টা ফিরে পাওয়া পর্যন্ত বউমাকে বেশ কিছুদিন প্রচন্ড কষ্টের মধ্যে থাকতে হয়, কিন্তু তারজন্য কোন ব্যক্তি বা দলের দ্বারস্থ হয়নি। দিনের পর দিন ঠোঙা বেঁধে দিন গুজরান করেছে। চাকরী ফিরে পাবার পরও অতি সাধারণ জীবন যাপন করেত। গানের গ্রূপ তৈরী করেছে, নাটকের দল গড়েছে। মানুষ কে সচেতন করে তোলার জন্য দূরে দূরে গ্রামে গঞ্জে সেই সব দল নিয়ে প্রোগ্রাম করেছে। বিভিন্ন সামাজিক কাজে এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তাগিদে সভা সমিতিতে যোগ দিয়েছে, অনেক পত্রপত্রিকায় লিখেছে।
--
পরবর্তী কালে এই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেরই এক সঙ্গী, একজন তাঁতশিল্পীকে বিয়ে করেছিল। অসুস্থ থাকা কালীন তিনি বউমাকে অনলস সেবা করে গেছেন। জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য কোনদিন পয়সা রোজগার বা নাম কামাবার জন্য লেখেনি, বা কখন কোন বিশেষ সুবিধা নেবার চেষ্টা করেনি, এমন কি স্কুল থেকে অবসর নেবার পরেও নয়। যতদিন সুস্থ থেকেছে  নীরবে কাজ করে গেছে। অসুস্থ হবার পর আস্তে আস্তে ঘরে আটকে পড়ে, তবু সাধারণ মানুষ আর বর্তমান সমাজের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা সে কখনও বন্ধ করেনি।
--
সময়ের আগেই বড় তাড়াতাড়ি একে একে চলে  যাচ্ছে ১৯৭০ এর  আমাদের ঝোড়ো হওয়ার দিনের সেই সাথীরা। প্রথমে মাসিমা চলে গেলেন আমাদের সবার অগোচরে। তারপর গেল মীনাক্ষী, ওর পাশে তবু আমরা উপস্থিত হতে পেরেছিলাম। তারপর গেল মলয়া, তার কাছে যাবো ভেবেও যেতে পারিনি।  বৌমাকে আমরা দেখতে যাবো যাবো করেও, গিয়ে উঠতে পারিনি, শেষ দেখাটা হল না। আরও কত জনের তো কোন খৱৰ ই জানিনা। এগুলি আমাদেরই অনেক ব্যর্থতার মধ্যে আর একটি ব্যর্থতা। এবার আমাদের বুক খালি করে দিয়ে চলে গেল আমাদের সকলের একান্ত আদরের বউমা। শুধু আশা করব এদের সকলের কাজগুলি যেন বেঁচে থাকে আগামী দিনের পাথেয় হিসাবে।   ----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------