26 Apr 2020

তোরা খা, আমিও খাই



তোরাও খা , আমিও খাই
******************

ছোটবেলায় দিয়াদের পাড়ায় এক মহিলা ছিলেন , যার বাস ছিল  যত্রতত্র। আজ কারো বাড়ীর রোযাকে , কাল কোন পার্কের বেঞ্চে , পরশু কোন রাস্তার গাড়ী বারান্দার তলায় বা  কোন গাছের তলায়।  সম্বল বলতে একটা মাঝারি আকারের পুঁটলি । রোজ সেটা  খুলে গভীর মনোযোগ সহকারে সব একবার বার করত , আবার গুছিয়ে পুঁটলি  বাঁধত। কেউ যদি দেখার জন্য উঁকি দিত তাহলেই হল। তর্বড়িয়ে পুঁটলি বন্ধ করে তেড়ে যেত তার দিকে। বাচ্চারা ভারী  মজা পেতো। সুযোগ পেলেই ক্ষ্যাপাত " ও শৈলী পাগলী তোর পুঁটলিতে কি আছে , দ্যাখানা আমাদের। দেখবি, একদিন তুই ঘুমালে আমরা সব চুরি করে নেব। " স্বাভাবিক ভাবেই সে ক্ষ্যেপে যেত। চুরি যাবার ভয়ে সেটাকে সব  সময় আকঁড়ে ধরে থাকতো , এমনকি  ঘুমের সময়়েও। অন্যথায় সে কিন্তু ভারী শান্ত ,অযথা কাউকে কিছু বলতনা বা করতনা।
--

পুঁটলি টাই তার একমাত্র সম্বল। সেই পুঁটলিতে ছিল ছেঁড়াখোঁড়া একটা গায়ের চাঁদর , এখটা শাড়ি , কিছু ন্যাকড়া কানি,  কাঁচের দুই একটা হাতের চুড়ি , কিছু মরচে পড়া টিনের কৌটা , শিশি বোতল ,কাগজের টুকরা ইত্যাদি। কারো দান করা বা ফেলে দেওয়া। তাতেই সে সন্তুষ্ট। মাথায় একঢাল নোংরা জটা পড়া চুল , গায়ের গোরা রঙ নোংরা আর রোদে পুরে তামাটে। মাঝে মধ্যে রাস্তার কলে স্নান করলে আসল রঙ উঁকিঝুকি মারত সেই তামাটে রঙের ভিতর থেকে। বড় বড় চোখ আর টিকালো নাক। পরিস্কার পরিছন্ন অবস্থায় দেখলে , তাকে  যে কেমন সুন্দর দেখাবে তাই ছিল দিয়া আর তার  বন্ধুদের গবেষনার বিষয়।
--

শৈলী কিন্তু কিছু ব্যাপারে বেশ শৌখিন ছিল।  রঙিন দড়ি পেলে জটাপড়া চুলগুলিকে একসথে বেঁধে রাখত। প্রতিদিন গাছ থেকে কোন ফুল বা কিছু পাতা তার জটায়ে গোঁজা থাকবেই। সকালে কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো। কাক, পায়রা বা  চড়ুই যে কোন পাখী দেখলেই ভারী খুশী হতো। দোকান থেকে একমুঠো মুড়ি বা ছোলা চেয়ে এনে , ছুড়ে ছুড়ে তাদের খাওনো ছিল তার শখ। চেনা দোকানদারা তাকে একটু স্নেহমেশানো প্রশ্রয় ই দিত।  প্রকৃতি কে উপভোগ করার রোমান্টিকতা প্রবাহিত হতো তার ধমনীর শিরায় শিরায়। অপূর্ব সুক্ষ এক শিল্পীস্বত্তা ছিল হৃদয়ের অন্তস্থলে।
---

বর্ষাকাল ছিল তার খুব প্রিয় -- মেঘের ডাকে সে ময়ূর-ময়ূরীর মতো চঞ্চল হয়ে উঠতো। বৃষ্টিভেজার আনন্দ তার চোখ মুখে ফুটে উঠতো । আর রাস্তায় জল জমলে তো কথাই নেই , শিশুর মতো সরল খিলখিল হাসিতে উছলে উঠতো।  বাচ্চাদের  জলে কাগজের নৌকা ভাসাতে দেখলে, তাদের দলে ভিড়ে যেত।   দিয়ার কাছে বায়না করতো ," এই মেয়ে আমাকে কাগজ দিয়ে নৌকা বানিয়ে দে , আমিও সবার মতো জলে ভাসাবো। দিয়া শৈলীর ছোটখাটো আবদার গুলি পূরণ করার চেষ্টা করতো। কয়েকটা কাগজের নৌকা বানিয়ে দিলো। শৈলী তো মহাখুশী। মনের আনন্দে বাচ্চাদের সঙ্গে জলে নৌকা ভাসানোর খেলায় মেতে উঠলো।
---

মাঝে মাঝে  বিশ্ব জগত ভুলে রাতের  মেঘ মুক্ত খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো  তন্ময় হয়ে। দিয়া জিজ্ঞাসা করতো -"ও শৈলী , কি দেখছো এত মন দিয়ে।" একগাল হেসে বলতো "দেখছিস না  কত তারা আকাশে।  আচ্ছা  চাঁদ কি ওদের রানী - কত বড় আর কি সুন্দর। নিশ্চই চাঁদ রাতের আকাশের রানী। " "তাহলে , রানীর রাজা কে ,শৈলী। " 'ওমা ,জানোনা বুঝি, ভোরের লাল সূর্য্য টাই ওর রাজা। সোনার  রাজার রূপার রানী।  ঠিক বলেছিনা বলো। " " হ্যা, একদম ঠিক বলেছো। " ব্যাস মহাখুশী শৈলী।
--

আর একটা অদ্ভূত মজার ব্যাপার ছিলো শৈলীর। ক্ষিদে পেলে সে সোজা  বাগানের গেট খুলে বাড়ীর দরোজাতে এসে স্বাভাবিক অধিকারবোধে  হাঁক পাড়তো - "কইরে , আমার ক্ষিদে পেয়েছে ক্ষেতে দে। তোরাও খা , আমিও খাই। " কেউ যদি বলতো " তোমাকে কেন দেবো ?"  "কেন দিবি না ! তোরা খাবি  আর আমি খাবোনা কেন ! তোরাও খা , আমিও খাই। "
তবে শেলী বুঝে গেছিলো কোথায় খাবার পাবে আর কোথায় পাবেনা। যেখানে তাকে স্নেহভরে খেতে দেবে সেখানেই সে সাধারনত যেতো।  কিন্তু  মুশকিল হলো, কোথাও মাথায় দেবার ফুল /পাতা না পেলে সে লোকের বাড়ীর বাগান থেকে নেবে। বারণ করলে , বলবে, " এই  মাটিতে গাছ হলে সেটা সবাইয়ের। তোদের যেমন ,আমারও তেমন। তোরা জন্মের সময়ে মাটি কি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিস ?"  সাধারণত সে কখনোই একই বাড়ীতে সাত/দশ দিনে একবারের বেশী   যেতো না । ঘুরে ফিরে বিভিন্ন পাড়ায় বিভিন্ন বাড়ীতে যেতো। সমতাবোধ ছিল তার মজ্জাগত।
---

একদিন দিয়া তাকে জিজ্ঞাস করলো ," কি হলো , এতদিন পরে এলেযে ? কোথায় ছিলে ?" " অন্য পাড়ায় গেছিলাম , অন্য অনেক বাড়ী বাড়ী ঘুরছিলাম। " কেন ! এ পাড়ায় তোমাকে কেউ কিছু বলেছে ?" " ধূর বোকা মেয়ে , যেখানে আমকে ভালবাসে না , সে সব বাড়ীতে আমি কখনো যাইনা , আমার কি কোন মান নেই ! তবে হ্যা রোজ রোজ এক বাড়ীতে গেলে তাদের ওপর চাপ হবে না , অন্যায্য হবে না ! তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গেলে কারোর গায়ে লাগবেনা। আর রোজ তোকেই বা শুধু কেন জালাবো ! বাকীরা ও তো নিজেরা খাচ্ছে , তাহলে আমাকেই বা খেতে দেবেনা কেন ?" অকাট্য যুক্তি। "তবে হ্যা , তুই  আমার সবচেয়ে ভাল মা, শোন আমি মরলে এই পুঁটলি টা তোকে ই দিয়ে যাবো। এই দ্যাখ আমার এই লাল চুড়ি দুটো পরবি। পরবি তো  ?" কি ব্যাকুলতা যে ছিল সেই প্রশ্নে। অত গভীর ভালবাসা কে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
__

এরপর বেশ কদিন কেটে গেলো শৈলী আসে না। দিয়ার মনে মনে একটা অশ্বাস্তি বোধ হতে লাগলো। স্কুল যাওয়া আসার পথে দিয়ার  দুচোখ তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলো। কিন্তু কোথাও তাকে দেখতে পায়না। শেষে এক শনিবার বিকালে বন্ধুরা দল বেঁধে তাকে খুঁজতে বার হলো । অবশেষে তার দেখা মিললো। এক বড় বাড়ীর গাড়ী বারান্দার তলায় তাকে আবিস্কার করা গেল , প্রচন্ড জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে , কাশতে কাশতে দম বন্ধ হবার যোগাড় । দিয়াদের  দেখে এক চিলতে হাসি ফুটলো তার মুখে, কিন্তু কথা বলার শক্তি নেই।   আশপাশের দোকানদার রাই খাবার দাবার দিচ্ছিলো। পাড়ার এক ডাক্তার বাবু ওষুধ দিয়েছেন।
--

তখন মাঘ মাসের ঠান্ডায় ঘরে লেপ মুড়ি দিয়েও  সবাই  যখন কাঁপছে, খোলা জায়গায় শৈলীর জ্বৰ বেড়েই চললো, আস্তে আস্তে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়লো। ডাক্তার বাবুর কথায় পাড়ার লোকজন সরকারি  হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে আসলো। দিন তিনেক বাদে শোনা গেলো শৈলী মারা গেছে। দাহ করার দায়িত্ব নেবার কেউ ছিল না , তাই বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে তার শেষ আশ্রয় জুটলো লাশঘরে।
---

পাড়ার অনেকের ই  মন খারপ,  শৈলী যে সকলের অজান্তে তাদের জীবনের একটা অঙ্গ বা অভ্যাস হয়ে দাড়িয়ে ছিল।  একদিন এক দোকানদার দিয়ার  হাতে শৈলীর লাল চুড়ি দুটি দিয়ে বললো ," দিদি শৈলী বারবার করে এটা তোমাকে দিতে বলে গেছে। "  অনেকদিনের জমানো চোখের জল আর বাঁধ মানলো না। খালি মনে পড়তে থাকে, " এই খেতে দে,  ক্ষিদে পেযেছে। তোরাও  খা , আমিও খাই। " একটা অতি  সাধারণ মানুষ, লোকে যাকে পাগল বলত , কত সহজ, সরল ভাষায়  জীবনের সবচেয়ে গভীর সত্যটাকে  বলে গেছে। 
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

































































 

16 Apr 2020

খিদে

আমার দেশের পেটে খিদে, ভীষণ খিদে
একটাতো পেট নয়, সঙ্গে এক একটা পরিবার,
আমার দেশ তাই ছড়িয়ে পড়ে
এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে,
বাঁচার তাগিদে সুদূর পানে যাওয়া
এতো তার জন্মগত অধিকার,
কিন্তু নেই অধিকার শুধু ভাতের ;
খাবারের সন্ধানে যেতে হয় দূর থেকে দুরান্তরে।
---
হটাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাত,  মহামারী,
সারা দেশ লক ডাউন, নেই ফেরার পথ !
পেটের খিদে তো বাগ মানে না
পরিবারের মুখ ভাসে, সেখানে পেট পুড়ছে জ্বলন্ত অঙ্গারে, মন উতলা,
দিশেহারা আমার দেশ
স্টেশনে, বাসস্ট্যান্ডে অগণিত মাথা,
সুরাহা নেই কোনো, জোটে শুধু লাঠির বাড়ী ।
----
বাড়ী যাবার বাহন নেই, হতাশায় ভেঙে পড়া
আমার দেশ উঠে  দাঁড়ায়, হাঁটতে শুরু করে।
কত ক্রোশ, কত যোজন জানা নেই, অপরিচিত সড়ক,
গলা শুকিয়ে কাঠ, ক্ষত বিক্ষত পা, মুখ থুবড়ে পড়ে, কেউ কেউ আর ওঠেনা,
কেউ কেউ আবার ওঠে, আবার চলে ।
---
ঘুঘুডাকা গ্রাম, শ্যাওলা পড়া বুড়োবট, কলমিলতা বেষ্টিত ঘর,
আর পরিবার পরিজনের ক্যানভাস চোখে ,
মনে আশা একদিন ঠিক পৌঁছে যাবে,
আমার দেশ উৎকণ্ঠায়, দুরাশায় পথ হাতড়ে মরে; অচেনা দিন, অজানা ভবিষ্যৎ ,
জ্বলন্ত রোদ মাথার ওপর, জ্বলন্ত আগুন পেটে !
------------------------------------------------------------------

7 Mar 2020

উল্ল্মফন

উল্ল্মফন
*************

একাকিত্বের হাহাকার বাতাসে, বাতাসে
চাটুকারী এক জড়ভরত জীবনপ্রবাহ,
যারা মরে যাচ্ছে, তারা কি বেঁচে যাচ্ছে !
বেঁচে থাকা মানুষরাই আজ মরে বেঁচে আছে।
---
আগে এক আকাশ উড়বার ইচ্ছা ছিল
ভূমি ছিল নিশ্চিন্ত, নিরাপদ আশ্রয়
ছিল বৃষ্টিঝরা উদ্দামতা, এক মহাসাগর ভরা স্বপ্ন
অরুন আলোর উদ্যম, ঋজু পাহাড় প্রমান দৃঢ়তা।
---
মানবজনম ছিল চির স্বাধীন
নদীর কলতান, দিগন্তের সবুজ হাসিতে মাতোয়ারা
জোৎস্নামেদুর ভালবাসা জড়ানো মানবসমাজ
আর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।
---
রামধনু তুলিতে সৃষ্টির সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে পৃথিবী
ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটেছে দুর্দ্দমকে আয়ত্ত করতে  
সব অচলায়তনের পাঁচিল ভেঙে ফেলার স্পর্ধা ছিল
কাঁটাতারের মালা গলায় নিয়ে গেয়েছে জীবনের জয়গান।
----
আজ নিঃশ্বাসে বিষ, চিন্তায় বিষ, বিষে জর্জরিত বাতাবরণ,
পাঁজর ভাঙা শূন্যতা, নির্লিপ্ত মমি জীবন, নাম বিহীন জংলা জমিন,
ফ্যাকাশে দৃষ্টি, ভাঙা আয়নায় ডানা ঝাপ্টানো, নিঃশব্দ চোখের জল,
উল্কাপাতে পুড়ে যাওয়া বিহ্বল মন, স্খলিত বিবেক, মদালসা জীবন বোধ !
----
শূন্য থেকে শুরু করে শূন্যে ফিরে যাওয়ার অর্থ কি পশ্চাৎগামীতা, একেবারে হেরে যাওয়া ? 
আদি অনন্ত কাল ধরে এগিয়ে যাবার লড়াই, যুগ যুগান্তরের মহান স্বপ্ন কি শুধুই দুরাশা ! 
নাকি পরিশেষে আছে বিশাল এক উল্ল্মফন, উত্তরণ, আর দুরন্ত জয় ;
শুধু পৃথিবী নয়, অসীম মহাকাশের অসংখ্য নক্ষত্র পুঞ্জের মহামিলন।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------




24 Feb 2020

শিখা

শিখা
******
প্রদীপের শিখার মত অমলিন জীবন ছিল তোমার। এমন সহজ, সরল, সহৃদয় মন এখন দুর্লভ। এত বড় হৃদয় ছিল তোমার যে কত জনকে প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছ। এমন কি স্বামী পুত্রের অজান্তে তাঁদেরই একান্ত আপনজনদের নিজের অতি কষ্টে জমান অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে। সারা জীবন নিঃশব্দে শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রনার ভার বহন করে গিয়েছ কি করে? অথচ কি ভীষন কোমল আর নরম স্বভাবের মানুষ ছিলে তুমি।
---
আর তোমার এই গুণগুলি আমাকে তোমার প্রতি আকর্ষণ করেছিল, এক নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের বাঁধনে আমাদের দুজনকে বেঁধেছিল।স্কুল, কলেজের বন্ধুত্বের চাইতে অনেক দৃঢ় ছিল আমাদের বন্ধুত্ব।
বাচ্চাদের নিয়ে বইমেলায় বা সুভাষমেলায় যাওয়া। দুজনে একসাথে বেড়াতে যাওয়া, বাজার ঘাটে যাওয়া, সব ছবির মত চোখের সামনে ভাসছে।তুমি নেই এ কথাটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা।
---
কেউ অন্যায় ব্যবহার করলে কোন প্রতিবাদ করতে পড়তে না, নীরবে চোখের জল ফেলতে। তারজন্য কত বকেছি তোমায়, ভাবতে আজ বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমাদের দুজনের কষ্টের মলম ছিল দুজনের সাহচর্য। আবার হাসি, আনন্দের সাথীও ছিলাম দুজনে দুজনের। তুমি ছিলে আমার জীবনে এক দুর্লভ প্রাপ্তি। একথা আমি কিছুতেই ভুলতে পারিনা,  আমার প্রতি তোমার নিঃশর্ত বিশ্বাস, ভালবাসা আর নির্ভরতা। এটা তোমার একান্তই নিজস্ব গুন যা আমাকে অবাক করে দিত। নিজের কাছে নিজেই কুন্ঠিত থাকতাম।
---
একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষাদিবস। এই পুণ্যদিনে অসীম অনন্তের পানে তুমি পা বাড়ালে আমাকে একলা করে দিয়ে। কিন্তু তোমার এই চলে যাওয়াকে আমি এখনও কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা, সত্যি কথা বলতে, তোমাকে আগের মত খুব বকতে ইচ্ছে করছে। আমার মনে তুমি চিরকাল বেঁচে থাকবে শিখা। এই পৃথিবীর ই জলে, স্থলে বাতাসে তুমি মিশে আছো।তোমার আলোয় আমাকে পথ দেখিও বন্ধু আমার।
---------------

11 Feb 2020

সন্তরণ

সন্তরণ
********
অথৈ জলরাশি ফুঁসে ফুঁসে উঠেছে
সুবিশাল ঢেউ, ঢেউ এর পর ঢেউ
প্রবল কলোরোলে আছড়ে পড়ছে তটভূমে 
সব কিছুকে আকর্ষন করে ফিরে চলে অনন্তের পানে। 
জোয়ার ভাটা, আকর্ষণ বিকর্ষণ, কূলে অকূলে
নিরন্তর খেলা আর খেলা, ভাঙা আর গড়া। 
--
থৈ থৈ জল, মানুষ  হাতপা ছুঁড়ে চলেছে 
উদয়ের পথে এগিয়ে যাবার বাসনায়
কখনো জোয়ারের বিপুল টানে ভেসে যাওয়া অনেক দূর
পর মুহূর্তে ভাটার টানে তার চেয়েও বেশী পিছিয়ে আসা 
তবু দুরন্ত প্রচেষ্টা দিগন্তের নীলে সাঁতার কাটার 
কত যে সাধ নীল আকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মত পাখা মেলা।
--
অন্তরের গোলাপী ইচ্ছেরা সবুজ প্রজাপতির মত পাখনা মেলে 
আজীবনের গোপন স্বপ্নগুলি বরফসাদা খরগোশের মত চকিতে সামনে এসে দাঁড়ায়,
মৌচাক মনে সুপ্ত পুরাতন আখরগুলি বৈরাগী আলোর চিত্রপটে ভেসে ওঠে
ঘুম ভাঙানি বেলাভূমির আকুল করা আহবান গানের মত মর্মে প্রবেশ করে
মায়াময় প্রবাল দ্বীপ, রাতের সাগরে ডুব দিয়ে ওঠে মুঠো ভরা জোৎস্না 
ঝড়ের ভ্রূকুটি কে উপেক্ষা করে শুধু এগিয়ে চলা খসে পড়া তারাদের ধরতে। 
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------







12 Jan 2020

সময় - 3

সময় - 3
*************

সময় ছুটে চলেছে নিক্তির ওজনে
দাঁড়িপাল্লার মত দোদুল্যমান জীবনপ্রবাহ ;
---
একদিকে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা, সারা পৃথিবীটাকে গিলে খাবার চেষ্টা
হৃদয় মোচড়ানো উন্মত্ত ঢেউয়ের ঘূর্ণাবর্ত,
মেঘেদের নিঃশব্দ হাহাকার আর দ্বিপ্রহরে মলিন আলোর একাকিত্ব,
বিধ্বংসী বজ্রপাতে পুড়ে যায় নোঙ্গর ফেলা জীবনযাত্রা।
---
অন্যদিকে পাখির পালকে লুকিয়ে থাকা কত সোনালি স্বপ্ন, 
বিশাল জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ের পায়ের কাছে এলিয়ে থাকা আদিবাসী গ্রাম,
শাল পিয়ালের বনে দ্রিমিদ্রিমি মাদলে ডানা ঝাপটানো ইচ্ছেরা
আর বুকভরা মহুলফুলের মাতাল করা ঘ্রাান মেশাা নিঃশ্বাস। 
---
মহাশূন্যে ফুটে আছে অজন্তার, ইলোরার চাঁদ, তারারা
গুঁড়ি মেরে ঢোকা শিউলিগন্ধ ভোরে মায়াময় আবেশ,
গোধূলীর আলোমাখা আঁচল আর সাদাকালো মেঘের জাফরী
হরিণের চকিত অধরা চাউনি আর মুঠোভরা জোৎস্নার স্বপ্নিল আশা।
---
চতুর্দিকে শুধু মন আর দেহের প্রতিটি কোষের আগ্রাসী লালসা
পরিবর্তে, তির তির করে বয়ে চলা সময়ের নূপুর ঝংকারের সাথে
দমরু হাতে জনতা নটরাজের প্রলয়ংকরী তান্ডব নৃত্যে,
অগ্নিশুদ্ধ রক্তিম শিশুসূর্যের যেন নতুন এক ভোরের আহবান।
/-------------------------------------------------------------------------/------------------------------------------------------------------------------------/

1 Jan 2020

আরও একটা বছর

পৃথিবীর আরও একটা বছর বয়েস বাড়ল,
প্রকৃতির আরও একটা বছর বয়স বাড়ল,
আর বয়স বাড়ল বিশ্বব্রম্ভান্ডের ,
তোমার, আমার সকলর ই আরও একটা করে বয়েস বাড়ল,
কিন্তু মানুষের কি বয়স বাড়ল!
আশা করতে দোষ কোথায় একদিন মানুষের বয়েস ঠিক বাড়বে।
আর কোন কাশ্মীর, বা আসাম ঘটবে না,
কোন শিক্ষাঙ্গন রণাঙ্গনে পরিণত হবেনা,
আর কোন শিশু আর নারী ধর্ষিতা হর্বেনা।
মানুষের রক্তে কলুষিত হবে না মানুষের হাত,
পৃথিবীর বুকে আর কখন সাম্রাজ্যবাদী আর সন্ত্রাসবাদীদের কালহাত  
আর কোন সিরিয়া বা ইরান,
আফগানিস্তান বা প্যালেস্টাইন ঘটাতে পারবেনা।
মহাকালের রথচক্রের সাথে তাল মিলিয়ে পরিণত হবে তাদের বিবেক, বুদ্ধি, বিচার ক্ষমতা,
বাড়বে সহনশীলতা, প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে।
জন্মসূত্রেই সে যে বিশ্বনাগরিক, সে সত্য কে হৃদয়ে উপলব্ধি করবে,
দুহাজার কুড়ি যেন এই শপথে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে পারে