25 Jan 2018

আমাদের বউমা

আমাদের বউমা
***********

"আমরা এগিয়ে চলি জীবনেরই প্রান্তে, আঁধারের বোঁটা থেকে আলো ছিঁড়ে আনতে। "
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

গতকাল ২৪ শে জানুয়ারি চলে গেল আমাদের জেল জীবনের আর এক সাথী, অতি ভালোবাসার বউমা। শান্তিপুর নিবাসী জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য (ডাক নাম রুবি) কে আমরা সবাই বউমা বলে ডাকতাম। ডাক টা শুরু করেছিল জয়া (কৃষ্ণা ব্যানার্জ্জী)। বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিল, অবশেষে সেরিব্রাল স্ট্রোকে ১৩ দিন হাসপাতালে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ফেলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
--
অসাধারণ সব গুনের অধিকারী ছিল বউমা। ছোটবেলা থেকেই আই.পি.টি.আই. এর সাংস্কৃতিক কাজের - গান, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিল। বি.এ পাশের পর একটি সরকারি স্কুলে চাকরী পায়। মা, দুই বোন, এক ভাই কে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব বহন করে। ভাই উপযুক্ত হয়ে চাকরি পাওয়া পর্য্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেছে।
--
আজীবন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কাজে নিমগ্ন শহীদ কমরেড শ্রী অজয় ভট্টাচার্য্য কে বিয়ে করেছিল।  স্কুলে কাজ করার সাথে সাথে এই সমস্ত কাজে বউমাও খুবই সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিল। অজয়দাদের চার জন কে  পুলিশ যখন গুলি করে মারে, সে তখন পার্টির আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মী হিসাবে অনেক দূরে কাজ করছিল। খবরের কাগজের মাধ্যমে প্রথম খবরটা জানতে পারে। এই দুঃসহ আঘাত তাকে ভাঙতে পারেনি বরং বিপ্লবের কাজে আরও দৃঢ় করে তোলে।    
--
সাধারণ মানুষের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জয়শ্রী ভট্টাচার্যের চরিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। জেলের ভেতরে ও বাইরে তাঁর লেখা অজস্র প্রবন্ধ,গল্প ও নাটকগুলিতে মেহনতী মানুষের জীবন সংগ্রাম ছিল মূল বিষয়। তাঁর লেখা অনেক নাটক তাঁরই পরিচালনায় জেলে আমরা কখনও সাধারণ বন্দিনীদের সামনে কখনও বা নিজেদের মধ্যে অভিনয় করতাম।
--
একবার বউমা একটা নাটকে শ্রী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা রাজা ও টুনটুনি পাখীর গল্পটার আধারে শ্রমিক কৃষক বিদ্রোহের একটা নাটক লিখেছিল, সেখানে এক বোষ্টমের গলায় গানের মধ্যে দিয়ে রাজার দুরাচারের কথা বলা হয়েছিল। পরে 'হীরকরাজার দেশে' সিনেমা টা দেখে বউমার সৃজনশীলতা সম্পর্কে শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়।  
 --
খুব সুন্দর গানের গলা ছিল। নাটকের জন্য গান লেখা, তাতে সুর দেওয়া সবই ছিল তাঁর অনায়াসলভ্য। আমাদের আই.পি.টি.আই এর কত গান শিখিয়েছিল। অসুখে সেবা করা, নিজের হাতে রান্না আদর করে খাওয়ান সব কিছুতে একান্ত আপনজনের মত ছিল আমাদের বউমা।   
--
জয়শ্রী  জেলে আসে ৭৪ সাল নাগাদ। বেশীর ভাগ সময় প্রেসিডেন্সী জেলে, এবং কিছুদিন কৃষ্ণনগর জেলে ছিল। আমরা একমাত্র মাসিমা (শান্তি রানী দেব), আর অর্চনাদি ছাড়া সবাই কে সবাই তুই তোকারি করতাম, সে ১০/১৫ বছর বড় হলেও, জেলে এটাই স্বাভাবিক চল ছিল। এইজন্যে মাঝে মধ্যে বউমা, (কল্পনা, মলায়া, লতিকা ইত্যাদিরা) রাগের ভান করত, আমরা পাত্তা দিতাম না। কিন্তু কোন বিশেষ কারণে বউমা সাত্যি যখন কাউকে বকতো, তখন সে গাম্ভীর্য্য কে উপেক্ষা করার সাহস কারো হতো না।
 --
জেল থেকে বার হবার পর স্কুলের চাকরী টা ফিরে পাওয়া পর্যন্ত বউমাকে বেশ কিছুদিন প্রচন্ড কষ্টের মধ্যে থাকতে হয়, কিন্তু তারজন্য কোন ব্যক্তি বা দলের দ্বারস্থ হয়নি। দিনের পর দিন ঠোঙা বেঁধে দিন গুজরান করেছে। চাকরী ফিরে পাবার পরও অতি সাধারণ জীবন যাপন করেত। গানের গ্রূপ তৈরী করেছে, নাটকের দল গড়েছে। মানুষ কে সচেতন করে তোলার জন্য দূরে দূরে গ্রামে গঞ্জে সেই সব দল নিয়ে প্রোগ্রাম করেছে। বিভিন্ন সামাজিক কাজে এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তাগিদে সভা সমিতিতে যোগ দিয়েছে, অনেক পত্রপত্রিকায় লিখেছে।
--
পরবর্তী কালে এই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেরই এক সঙ্গী, একজন তাঁতশিল্পীকে বিয়ে করেছিল। অসুস্থ থাকা কালীন তিনি বউমাকে অনলস সেবা করে গেছেন। জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য কোনদিন পয়সা রোজগার বা নাম কামাবার জন্য লেখেনি, বা কখন কোন বিশেষ সুবিধা নেবার চেষ্টা করেনি, এমন কি স্কুল থেকে অবসর নেবার পরেও নয়। যতদিন সুস্থ থেকেছে  নীরবে কাজ করে গেছে। অসুস্থ হবার পর আস্তে আস্তে ঘরে আটকে পড়ে, তবু সাধারণ মানুষ আর বর্তমান সমাজের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা সে কখনও বন্ধ করেনি।
--
সময়ের আগেই বড় তাড়াতাড়ি একে একে চলে  যাচ্ছে ১৯৭০ এর  আমাদের ঝোড়ো হওয়ার দিনের সেই সাথীরা। প্রথমে মাসিমা চলে গেলেন আমাদের সবার অগোচরে। তারপর গেল মীনাক্ষী, ওর পাশে তবু আমরা উপস্থিত হতে পেরেছিলাম। তারপর গেল মলয়া, তার কাছে যাবো ভেবেও যেতে পারিনি।  বৌমাকে আমরা দেখতে যাবো যাবো করেও, গিয়ে উঠতে পারিনি, শেষ দেখাটা হল না। আরও কত জনের তো কোন খৱৰ ই জানিনা। এগুলি আমাদেরই অনেক ব্যর্থতার মধ্যে আর একটি ব্যর্থতা। এবার আমাদের বুক খালি করে দিয়ে চলে গেল আমাদের সকলের একান্ত আদরের বউমা। শুধু আশা করব এদের সকলের কাজগুলি যেন বেঁচে থাকে আগামী দিনের পাথেয় হিসাবে।   ----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------





 

8 Dec 2017

হারিয়ে গেছে সেই দিনগুলি!

হারিয়ে গেছে সেই দিনগুলি : একটি একান্ত আত্মসমীক্ষা।
******************************
বন্ধু, কোন একদিন স্বপ্ন দেখেছিলাম,
সকলে মিলে ওই নীল আকাশটা থেকে সূর্য্য টাকে পেড়ে আনব। জোৎস্নারাতের চাঁদ টাকে এনে দেব উত্তরপ্রজন্মের হাতে। ফুলে ফলে ভরা সাজান বাগান দেব আর দেব নদনদী স্বচ্ছ, স্রোতস্বিনী। কথা ছিল জঙ্গল ভরে দেব নানা রঙের প্রজাপতির উড়ান আর পাখীর উচ্ছল কাকলীতে। দেব সবুজ ফসলের মাঠ আর নীল দিগন্ত । সাদা বরফে মোড়া পাহাড়ের পায়ের কাছে খেলা করবে সাগরের দুরন্ত ঢেউ। উজ্জ্বল তারাদের মেলা বসবে মাটির এই পৃথিবীতে। অঙ্গীকার ছিল নতুন মানুষে ভরা এক নতুন দুনিয়া সৃষ্টি করার।
--
নতুন মানুষ নয় আজ শয়তানের আনাগোনা বেড়েছে সহস্র গুন।এখন মানুষের সমাজ নরকে ও হার মানিয়েছে। ঠান্ডা মাথায় নিরস্ত্র অসহায় মানুষকে কুপিয়ে খুন করছে, আগুনে পুড়িয়ে মারছে। প্রতিক্ষণ ঘটে চলেছে ধর্ষণের মত ঘৃন্য অপরাধ, শিশু থেকে বৃদ্ধা কারো রেহাই নেই। অনাহার, অশিক্ষা, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। প্রতিবাদের ভাষা রুদ্ধ। কলমের কালী ও যেন শুকিয়ে গেছে।
--
কোথায় গেল সেই নতুন দুনিয়ার স্বপ্ন! যার জন্য শপথ নিয়েছিলাম হাতে হাত ধরে পার হয়ে যাব হাজার হাজার বাঁধা। একের তরে সকলে ছিলাম, কোমর কোষেছিলাম, মনে ছিলাম এক প্রাণ।আজ ছিটকে গেছি কে কোথায়। যাঁরা এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে, তাঁরা বোধহয় বেঁচে গেছে। তাঁদের দেখতে হল না অনেক অনেক কিছু। দেখতে হয়নি আমরা অনেকেই মাঝপথে ছেড়ে এসেছি সে রাস্তা, নিজেদের পুরান অবস্থানে ফিরে গেছি।
--
আজ নিরাপদ দূরত্বে বসে আলোচনা, সমালোচনায় ব্যস্ত। নিজেদের আত্মগ্লানির তুষ্টির জন্য হয়তো কিছু সাধারণ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা সামাজিক  কাজ কর্মে  যোগ দেওয়া। কিন্তু আজ আমাদের প্রাত্যহিক যাপন মূলতঃ ও একান্ত ভাবেই আত্মকেন্দ্রিক। বস্তুতঃ মানসিক ভাবে সেই স্বপ্ন, সেই শপথ থেকে আজ আমরা সত্যি অনেক অনেক দূরে। বন্ধুরা, আমরা নিজেরাই যে নিজেদের থেকে কত সহস্র আলোক বর্ষ দূরে, তা হিসেবের অতীত!
--
এই বাস্তবতাকে নিছক মানতেও আমরা হয়ত ভয় পাই। কারন এর প্রকৃত অর্থ হতাশার আঁধারে একেবারে ডুবে যাওয়া। একটা জড় পদার্থে রূপান্তরিত হওয়া। অন্তত জীবনের শেষ ক্ষণ পর্যন্ত সেই অঙ্গীকারের স্পন্দনটুকু  আমাদের নাড়ির মধ্যে থেকে যেন একেবারে মুছে না যায়, এইটুকুই এখন কাম্য।
--------------------------------------------------

12 Oct 2017

রোমন্থন

রোমন্থন
*****

বাতাসে  হিমেল পরশ
অলস দুপুর গড়িয়ে চলে 
মগ ডালে কাকেদের কা কা,
পাতায় পাতায় হাওয়ার দোলন
দোলা লাগে ঘাসের ডগায়।
--
টুনটুনি, বুলবুলির ঝাঁক
গাছের ডালে দোল খেয়ে যায়,
ক্রমাগত  সাইকেল আরোহী
চলে যায় পিচ ঢালা পথ ধরে,
ঝরে যায়  শুকনো পাতা।
--
মন চলে যায় সুদূর অতীতে
সেই নির্মল শিশু বয়সে, 
বাগান ঘেৱা সার সার বাড়ী
ফুলে ফুলে মধু খায় প্রজাপতি,
কত তাদের রঙের বাহার
সকাল দুপুর তাদের সাথে
কি যে মিষ্টিমধুর খেলা।
--
ছোট পাহাড় ঘেরা শহর
একটি মাত্র পূজা।
সাত সকালে বাগানের
ফুল তোলা, দল বেঁধে  
মন্ডপে যাওয়া, চারিদিকে
শান্তিসম্প্রীতির অপূর্ব এক বাতাবরণ।
আজ অনুক্ষণ পুরাতন স্মৃতির জাবর কাটা ।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------












25 Sept 2017

কিছু অনুভূতি - একটি নিছক গদ্য


কিছু অনুভূতি  - একটি নিছক গদ্য
************************

পৃথিবীটা যেভাবে চলার কথা চলছে না, 
সমাজটা যা হওয়া দরকার হচ্ছে না, মানুষের যা করা উচিত করছে না, 
জীবন টা আজ ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে!
কেন !
---

লালসা আকীর্ণ করে ফেলছে মানুষের মনকে নিজেদের অজন্তেই, লোভে উন্মত্ত পৃথিবী শুধুই ভোগবাদের দর্শনে আবিষ্ট।   প্রতিপত্তির নেশায় ডুবেছে সমাজ, রাষ্ট্রযন্ত্র মুষ্টিমেয় পরজীবীদের করায়ত্ত্ব,
বিশ্বজোড়া আগ্রাসনের নীতি তারই জন্য যত হানাহানি আর রক্তপাত।
--
পৃথিবীটাকে যদি শুধু আমাদের বসবাসের জন্য ভূমিখন্ড বলে মনে না করি,
তাকে মহাবিশ্বের শুধু মাত্র একটা গ্রহ বলে ভাবতে চেষ্টা করি, দেখা যাবে সে ঠিকঠাক তার গতিপথে ঘুরছে, মহাশুন্যে সব গ্রহ নক্ষত্র নীহারিকাপুঞ্জ নিয়ম মতো কেমন ঠিকঠাক ঘুরে চলেছে, সে এক অপার বিস্ময় !
---
সমাজ ভাবেনা, মানুষ বোঝেনা, সহজ সাধারণ স্বাভাবিক নিয়মগুলি মানেনা,
প্রকৃতি যে নিয়মে চলে, তাকে ভাঙলে,
সে প্রতিশোধ নিতে জানে, নিতে পারে।
সৃস্টিশীল, সামগ্রিক, মানবিক কল্যানে,
মিতব্যয়ীর মতো, যক্ষের ধনের মতো প্রকৃতি কে, আগলে রাখাই, তাকে প্রকৃত অর্থে জয় করা।
---
এই মহাসত্য যেদিন মানুষ উপলব্ধি করবে
পৃথিবীটা যেভাবে চলার কথা তাই চলবে;
সেদিন সমাজ যা হওয়া উচিত তাই হবে,
মানুষ মানুষের মতো বাঁচতে শিখবে; জীবন হয়ে উঠবে আনন্দময়, সৃজনিশীল, নির্লোভ আর উদার, সরল, মুক্ত আর অনুভূতিপ্রবন; মানুষ হবে প্রকৃত অর্থে সামাজিক জীব।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------




















23 Sept 2017

প্লাবন

প্লাবন 
******

নোয়ার যুগে যেমন প্লাবনে ভেসেছিল পৃথিবী
আরও একবার তেমনই প্লাবনে ভাসুক বসুমতী
সূর্য্য আজ হারিয়েছে তার দীপ্তি
নিদারুন অন্ধকারে ডুবেছে ধরিত্রী।
--
যৌবন হতাশার আবরণে পর্যুদস্ত, 
কৈশোর ভাসছে দিশাহীন ঘূর্ণিতে,
শৈশব যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত
মানব জীবন চলেছে খুঁড়িয়ে।
--
ধর্ষকদল গুরুর  আসনে আসীন
শোষকের স্পর্দ্ধা আকাশ ছোঁয়া,
মূর্খের স্বর্গরাজ্যের এখন রমরমা
কপট, দুরাচারীর ফলাও ব্যবসা।
--
মনুষ্যত্বের দাবী এখন দুরস্ত 
প্রতিবাদের কণ্ঠ হয়েছে স্তব্ধ,
প্রতিরোধের শাস্তি আজ মৃত্যু 
শান্তির পথ হয়েছে অবরুদ্ধ।
--
বাঁচার দাবী হোক আরও জোরাল,
আজ হাতে হাত,কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে,
শুরু হোক অবিরাম দুর্বার পা ফেলা
নতুন দিনের স্বপ্নের মশাল জ্বালিয়ে।
--
সমুদ্রে উঠুক ভালবাসার জোয়ার,
শ্যামল বনরাজি মাখুক মানবতা,
জীবনের জয়গানে মুখরিত বাতাস,
আকাশ ছড়িয়ে দিক সেই বারতা, 
মুক্তির মহাপ্লাবনে ভাসুক বিশ্বমাতা।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

7 Sept 2017

জিজ্ঞাসা

জিজ্ঞাসা
*******

হতভাগী মা আমার
কোথায় তোরে পাবো !  
আজকে আমি তোরে 
শুধু দুটো কথা কব।
--
পেটে তোর কত আগুন
পারিসনি কি সইতে !  
ছাদ চেয়েছিলি মাথার পরে 
দিন গুজরান করতে !
--
সেসব কি শুধু তোর তরে
মোর তরে কি নয়
ভুখাপেটে দেখলে আমায়
কষ্ট যে তোর হয়।
--
মুর্খ তুই, সরল মানুষ  
এইটুকুতেই  তুষ্ট
বাছা তোর পেটের জ্বালায়
আর পাবে না কষ্ট।
--
ঝড় জলে তার বাঁচবে মাথা
একটুকু ছাদ পেলে
বুঝিসনি কি সুঁচের জ্বালা  
দ্বিগুন হয়ে জ্বলে !
--  
দুষছে সমাজ আজকে তোকে
কোথায় ছিল তখন !  
ঘুরছিনু মোরা দোরে দোরে 
ভুখাপেটে যখন !
--
কোথা ছিল আইন আদালত
আজ বিচারে ব্যস্ত
ছিল মোদের বাঁচার অধিকার
কারো হাতে কি ন্যস্ত !
--
জোট বেঁধে আজ দে না 
ফাঁসী, তোরা সবাই মিলে
হাসি মুখে আমার কাছে
আসবে মা মোর চলে।
--

15 Aug 2017

স্বাধীনতার হীনতা

স্বাধীনতার হীনতা
****************

আমি জানিনা স্বাধীনতার মানে
দলিত শিশু অস্পৃশ্যতার দায়ে,
ভেসে যায় খুনে!
--
আমি বুঝিনা স্বাধীনতার মানে
কারখানা বন্ধ,
শ্রমিক মাশুল গোনে!
--
আমি জানিনা স্বাধীনতার মানে
শিশুদের আস্তানা লাশঘরে, 
বিনা অক্সিজেনে!
--
আমি বুঝিনা স্বাধীনতার মানে
কৃষক মরে অনাহারে,
ঋণের বোঝার কল্যানে ! 
--
আমি জানিনা স্বাধীনতার মানে
যখন ধর্মের জিগিরে
মানুষকে নৃসংশ পথ টানে!
--
আমি বুঝিনা স্বাধীনতার মানে
মেয়েদের চরিত্রে আঙ্গুল ওঠে
লম্পটের অশালীন আচরনে!  
--
আমি জানিনা স্বাধীনতার মানে
বেকার কেন দড়িতে ঝোলে -
অভাবে, চূড়ান্ত অপমানে!
--
আমি বুঝিনা স্বাধীনতার মানে
মায়ের শরীর চিতায় জ্বলে,
কন্যা সন্তানের জন্মে!
--
আমি জানিনা স্বাধীনতার মানে
গ্রাম গঞ্জ বর্ষার জলে,
নিরুপায় মানুষ ভাসে বানে! 
--
আমি বুঝিনা স্বাধীনতার মানে
ধনী গরীবের দুস্তর ব্যবধানে,
সভ্য দুনিয়া ছোটে বারুদের পিছনে!
--
আমি জানতে চাই স্বাধীনতার মানে 
দেশ জাগুক প্রকৃত শহীদের স্মরণে,
মানুষ মাতুক মনুষ্যত্বের জয়গানে,
পৃথিবী ছুটক মহামুক্তির পানে।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------